

সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টারঃ
গাজীপুর জেলার টঙ্গী রাজস্ব সার্কেল এলাকায় সরকারি-সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার সম্পদ গিলে খাওয়া কামরুলের বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করেছে একজন সুনাগরিক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,গাজীপুর জেলার টঙ্গী সাতাইশ এলাকার মৃত আম্বর আলীর ছেলে কামরুল ইসলাম ওরফে মাউচ্ছা কামরুল দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে জাল দলিলাদি সৃজন করে সরকারি খাস জমি, ব্যক্তি মালিকানা সহ বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট কোম্পানির জমি দখল ও বিক্রি করে কালো টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছে। গত ২৩-১২-২০১৪ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুসারে দ্য রেজিস্ট্রার অফ জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ এন্ড ফার্মস পরিদপ্তর কতৃক বাতিল হওয়া এহসান সোসাইটির নামে ক্রয়কৃত জমি সে বিগত কিছু দিন ধরে বিভিন্ন চক্রের সহযোগিতা নিয়ে বেআইনিভাবে বিক্রি করে আসছে। শত শত জাল দলিল দিয়ে নামজারি করার মধ্যে উল্লেখযোগ্য টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের দায়েরকৃত ১১৯২৩/২০২৫-২৬ অনলাইন নামজারির ও জমাভাগ মোকদ্দমার শুনানিকালে সনাক্ত করা একটি। এই নামজারিতে দাখিল করা সাফকবলা দলিল নাম্বার ১৮১২০/২০২৫ সম্পর্কে যাচাই করে দেখা যায়, বিগত ২০-১০-২০২৫ ইং তারিখে রেজিষ্ট্রিকৃত দললটি শুধু বায়নানামা দলিল। এছাড়াও কামরুলের নেতৃত্বে একটি জালিয়াতকারি সিন্ডিকেট টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকার হরযতপুর বাকাইল ব্রীজ থেকে গুটিয়া ব্রীজ পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার জুড়ে ৪০০ বিঘা সরকারি খাস জমি,হাওর, বাওড়,বিল,জলাশয়,খাল,পুকুর জবর দখল করে এমএ ওহাব এন্ড সন্স রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের অধীন ছায়াকুঞ্জ-৫ ও ছায়াকুঞ্জ- ৬ নামক আবাসন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। জলাশয় ভরাটের কারণে ২০১৮ সালে জেল জরিমানাও হয়েছে তার।এসকল অবৈধ আয় দিয়ে রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন জায়গায় নামে বেনামে গড়ে তুলেছে আলিসান বাড়ি ও নিজসহ পরিবারের সকল সদস্যের নামে ব্যাংক একাউন্ট খুলে গচ্ছিত রেখেছেন কোটি কোটি টাকা। তার রয়েছে ৪ শতাধিক বখাটেদের নিয়ে নিজস্ব বাহিনী,এজন্য তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পায় এলাকাবাসী।গণমাধ্যম কর্মীরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলেও লাঞ্ছিত হতে হয় তার বাহিনী দ্বারা।
এবিষয়ে আলমগীর মিয়া সহ একাধিক এলাকাবাসী জানায়,সাধারণ মাছ ব্যবসায়ি থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে সাধারণ মানুষ আর সরকারি সম্পদ অবৈধভাবে জবরদখল করে। তার বিরুদ্ধে কথা বললেই সে তার বাহিনী দিয়ে তুলে নিয়ে মারধর করবে। তার আবাসিক এলাকায় বড় বড় নেতাদের আসা যাওয়া রয়েছে। গত কয়দিন আগে একজন গার্মেন্টস শ্রমিক নিহতের বিষয়ে তার হাত রয়েছে বলে এলাকায় জনশ্রুতিও রয়েছে।
দুদকে অভিযোগের বিষয়ে প্রাণ নাশের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযোগকারী জানান,কামরুল এতটাই দুর্ধর্ষ যে,অভিযোগকারী হিসেবে আমি নিজের নামটাও প্রকাশ করতে ভয় পাই,তার বাস ভবনে সব সময় যাতায়াত করে প্রশাসন,গণমাধ্যম কর্মী থেকে শুরু করে সকল শ্রেণীর রাজনৈতিক নেতারা। টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলে রয়েছে তার নিজস্ব সিন্ডিকেট। ঐ সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই মোটা অংকের টাকায় জাল দলিল দিয়ে করে থাকে নামজারি। সকল দপ্তরে ঘুরে নিরুপায় হয়ে সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে ৩০ এপ্রিল দুদকে অভিযোগ করেছি।
সকল অভিযোগের বিষয়ে কামরুল ইসলাম জানান, এগুলো সব মিথ্যা, টাকা পয়সা দিলে সবই ঠিক হয়ে যাবে। আমার লোক আপনাদের সাথে দেখা করবে বলে ফোন কেটে দেয়,পরোক্ষণে সাইফুল ও মমতাজ উদ্দিন নামের দুইজন লোক প্রতিবেদকের সাথে দেখা করতে চাইলে,বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হবে মর্মে প্রতিবেদক দেখা করতে অস্বীকৃতি জানায়।
জাল দলিল দিয়ে নামজারি ও সরকার জায়গা জবর দখলের বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ মোজাহেরুল কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান,কামরুলের বিরুদ্ধে পূর্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়ে, আমরা আবারও অভিযান পরিচালনা করব।
দুদকে অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দুদক কতৃপক্ষ।