

নিক্সন হারুন,সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টারঃ ফরিদপুরের নগরকান্দার বহু মামলার আসামি বিজিবির চাকুরীচ্যুত মিরাজ হোসেনের নানান অপকর্ম ও ভূমিদস্যুতায় অতিষ্ঠ তার এলাকাবাসী।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফুলসুতি গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মিরাজ হোসেন তৎকালীন বিডিআর বর্তমানে বিজিবির দিনাজপুরে ব্যাটালিয়ন ৩ এ কর্মরত থাকাকালীন সময়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গ জনিত কারণে ২০০১ সালের ১১ অক্টোবর চাকুরীচ্যুত হয়। এরপর থেকে সে দূর্নীতি ও অপকর্মে বেপরোয়া হয়ে উঠে। এমনকি পতিত আওয়ামী লীগের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তার এসএসসি ও এইচএসসির শিক্ষা সনদ গোপন রেখে অষ্টম শ্রেণি পাশের ভূয়া সনদ বানিয়ে তৎকালীন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক নাসির উদ্দীন খানকে ম্যানেজ করে ২০০৪ সালের ২১ অক্টোবরে তহসিল পিয়ন হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়। বর্তমানে সে ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক (তহসিল পিয়ন) হিসেবে কর্মরত রয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার পালা বদলে নিজেকে সরকার দলীয় লোক সাজিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এখনও প্রতিদিন ৯/১০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করে ব্যস্ত সময় পার করছে সে। এসকল অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে নামে বেনামে ক্রয় জবর দখল করেছে এলাকার সাধারণ মানুষের জমি ও সরকারি খাস খতিয়ানের জায়গা।তার ক্রয়কৃত ও জাল দলিল সৃজন করা সম্পদ রয়েছে উপজেলার ১৬১ নং কোড়িয়াল মৌজার ১৯১৩ দাগে ২৫ লক্ষ টাকার মূল্যের ৬২ শতাংশ, ২১৪৩ দাগে ২২ লক্ষ টাকা মূল্যের ৫৬ শতাংশ, ১৯২৭ দাগে ১২ লক্ষ টাকা মূল্যের ২৬ শতাংশ, ১৯৪৫ দাগের ১৯ লক্ষ টাকা মূল্যের ৪৮ শতাংশ, ১৯২৫ দাগে ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের ২৬ শতাংশ, ২০০২ দাগের ১১ লক্ষ টাকা মূল্যের ২৬ শতাংশ, ২১১৩ দাগের দেড় কোটি টাকা মূল্যের ৮৬ শতাংশ, ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ডের প্বার্শে ৫৫ লক্ষ টাকা মূল্যের সাড়ে তিন শতাংশ, বিল মাসুদপুর মৌজায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ২৮ শতাংশ, এছাড়া তার গ্রামের হতদরিদ্র আলেম মিয়ার ছেলে আফতাব,জয়নুদ্দিনের ছেলে হাসিবুল,জয়নুদ্দিনের ছেলে রিয়াজুল,গেদা মোল্লার ছেলে সমেদ মোল্লা ও ওবায়দুল ড্রাইভার কে সুদে টাকা দিয়ে তাদের বসত ঘর জবরদখল করে নেয়ার মত জনশ্রুতি রয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে তার বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি দেওয়ানি বহু মামলা ।এছাড়া বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন দপ্তরে বারবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কোন প্রতিকার পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা। এমনকি তার লালসার হাত থেকে রেখায় পায়নি তার মেয়ের বয়সী সুমাইয়া। এবিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে সুমাইয়া বাদী হয়ে ২০২০ সালের ১৩ জুলাই ৭/৩০ ধারায় মামলা করে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে রয়েছে তার নিজ থানার মামলা নং ১৬(৮)১০ ও ২০২০ সালের ২৩ জুন ১৪৪ ধারায় আরেকটি মামলা,এমনকি ফরিদপুর বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে কার্যবিধি ১০৭/১১৭ ধারার মামলারও আসামি সে।
এবিষয়ে,মিরাজ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মিরাজ হোসেনের অপকর্ম দূর্নীতি সম্পর্কে ভাঙ্গার উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ সাদরুল আলম জানান,ইতিপূর্বে ভুক্তভোগীদের দায়েরকৃত অভিযোগ আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে এবং অভিযোগের তদন্ত সম্পূর্ণ হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে যথাযথ দপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে।

Reporter Name 









