ঢাকা , শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
টাকা ছাড়া নড়ে না ফাইল টঙ্গী পৌর ভূমি অফিসে,ঘুষ গ্রহণে সময় হাতেনাতে ধরা পড়ল অফিস সহায়ক সুইটি। নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘পিজা শামীমের’ ছেলের জাতীয় সংসদে পোস্টিং, নাশকতার শঙ্কা। নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সকল হত্যাকান্ডের সাথে ওসমান পরিবারের সংশ্লিষ্টতা ছিলো❞ -এমপি অ্যাড. আবদুল্লাহ আল আমিন দুর্গাপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে মাদকসহ আটক ২ সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর নির্বাচন,সিদ্দিক আল মামুন সভাপতি,সম্পাদক জসিম ফরায়েজী নবীনগরে নৌকায় বসার স্থানকে কেন্দ্র করে নিহত ১ পতিত সরকারের ঘনিষ্ঠজন হারুনের ফুড ল্যান্ড  বেকারির পন্য উৎপাদন হয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। বেগম জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির বাতিঘর : আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূইয় জুলাই আন্দোলনে ছাত্রজনতার উপর গুলি চালানো সোহাগ গোপনে থেকে কষছে নাশকতার  ছক। মানব পাচারকারী  আওয়ামী লীগের ধূসর সাদেকুর রহমানের প্রতারণায় নিঃস্ব লোকমান।
নোটিশ :
আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপডেট নিউজ থিমটি ক্রয় করতে আমাদের কল করুন 01732667364। আমাদের আরো নিউজ থিম দেখতে ভিজিট করুন www.themesbazar.com

টাকা ছাড়া নড়ে না ফাইল টঙ্গী পৌর ভূমি অফিসে,ঘুষ গ্রহণে সময় হাতেনাতে ধরা পড়ল অফিস সহায়ক সুইটি।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৫:৩৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • ৬০ বার পড়া হয়েছে

মোঃ বাবুল প্রকাশকঃ

‎গাজীপুর জেলার টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন টঙ্গী পৌর ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া নড়ে না ফাইল, ঘুষ গ্রহণের সময় হাতেনাতে গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে ধরা পড়ল অফিস সহায়ক সুইটি ডিকস্তা।

‎সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, সেবার নামে হয়রানি আর ঘুষের রমরমা বাণিজ্য চলে এই ভূমি অফিসে। টঙ্গী পৌর ভূমি উপসহকারী রোমান হোসেনের রয়েছে নিজস্ব দালাল চক্র। যাদের মাধ্যমে নামজারি,ভূমি কর দিলে সব কিছুই সহজেই হয়ে যায় । এমনকি জাল দলিল দিয়েও নামজারি করে দেয় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সে। এখানে শতাংশ অনুযায়ী ঘুষের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয় টঙ্গী পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তাহমিনা ইয়াসমিন। ঘুষের পরিমাণ ১৬ হাজার থেকে শুরু করে ৬০ হাজার,আবার কোন কোন ক্ষেত্রে লক্ষাধিকও হয়।এসব ঘুষের টাকার বড় একটা অংশ চলে যায় টঙ্গী রাজস্ব সার্কেল অফিসে। উল্লেখ্য সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার সরকারি সম্পদ গিলে খাওয়া  টঙ্গীর ভূমি খেকো মাউচ্ছা কামরুল ওরফে কামরুল ইসলামের সকল ভূমি সংক্রান্ত জাল জালিয়াতির সহযোগী এই ভূমি অফিসের সকল কর্মকর্তা কর্মচারিরা। এখানে ফাইলের কাগজপত্র নাড়তে জায়গার পরিমাণ অনুযায়ী ঘুষ দিতে হয় অফিস সহায়ক সুইটি ডিকস্তা কে। ১৩ মে বুধবার ভূমি কর দিতে আসা শেখ মোজাম্মেল নামক  একজনের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার সময় সে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর ভূমি সেবা নিতে আসা গ্রাহকেরা গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট প্রকাশ করেন তাদের হয়রানির কথা।

ভূমি কর দিতে এসে ঘুষ দেয়া বিষয়ে শেখ মোজাম্মেল জানান, টাকা ছাড়া এখানে কোন ফাইল নড়ে না,সেই কখন থেকে ঘুরতেছি।তাই বাধ্য হয়ে ঘুষ দিয়েছি।

এবিষয়ে পূবাইলের মোশারফ হোসেন নামের একজন জানান, নামজারি সংক্রান্ত বিষয়ে দালালের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে, আর  ভূমি কর দিতে আসলে বসে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা,কিন্তু ভালবাসা দিলে কাজের গতি বাড়িয়ে নিমিষেই করে দেয় সকল কাজ তারা। ভালবাসা কি জিজ্ঞাসা করতে মোশারফ হোসেন বলে উঠে এটাও বুজেন না এখানে ঘুষ কে ভালবাসা বলে।

‎নামজারির কাগজ নিতে আসা সাতাইশের সাইদুল ইসলাম নামের আরেকজন জানান, সরকারি মূল ১১শত টাকা হলেও, তার নামজারি করতে দালালের মাধ্যমে দিতে হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। আর নামজারির কাগজটা  দেরিতে নিতে আসায় দিতে হচ্ছে ৩ হাজার টাকা।

এছাড়াও একাধিক ভুক্তভোগী গণমাধ্যম কর্মীদের দেখে এগিয়ে এসে জানায়,এখানে রোমান হোসেন আর সুইটি ডিকস্তার মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণ করে নায়েব তাহমিনা ইয়াসমিন। জটিল কাজেও সমাধান হয়ে যায় দালাল ধরে ঘুষ দিলে।

ঘুষ গ্রহণের সময় হাতেনাতে ধরা পড়া টঙ্গী পৌর ভূমি অফিস সহায়ক সুইটি ডিকস্তা জানান, এই কয়টা টাকার  জন্যও আমার বিরুদ্ধে নিউজ করতে হবে।

ঘুষ লেনদেন হচ্ছে প্রকাশ্যে, আর ঘুষ গ্রহণের অনুমতি কি আপনি দিয়েছেন মুঠোফোনে টঙ্গী পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তাহমিনা ইয়াসমিন কে এমন প্রশ্ন করতেই সে জানান,আমার অফিসে ঘুষ চলে না,গণমাধ্যম কর্মীরা যখনই পাল্টা জিজ্ঞাসা করল আমরাতো আপনার অফিসের অফিস সহায়ক সুইটি ডিকস্তা কে ঘুষ গ্রহণের সময় হাতেনাতে ধরেছি,তখন সুইটিকে মুঠোফোনটা দিতে বলে এবং তাকে বলে গণমাধ্যম কর্মীদের মুঠোফোনের ফোন কেটে তার মুঠোফোনের মাধ্যমে ফোন করতে।

‎টঙ্গী পৌর ভূমি অফিসের নামজারি, ভূমি কর সহ সকল সেবা নিতে আসা গ্রাহকের নিকট থেকে ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ মোজাহেরুল কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, আমি ওদের বিরুদ্ধে একশানে যাব,যদি আমিও অপরাধী হয় আমাকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা উচিত। আর সরকারি জায়গা দখল করা কামরুলের বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

টাকা ছাড়া নড়ে না ফাইল টঙ্গী পৌর ভূমি অফিসে,ঘুষ গ্রহণে সময় হাতেনাতে ধরা পড়ল অফিস সহায়ক সুইটি।

টাকা ছাড়া নড়ে না ফাইল টঙ্গী পৌর ভূমি অফিসে,ঘুষ গ্রহণে সময় হাতেনাতে ধরা পড়ল অফিস সহায়ক সুইটি।

আপডেট সময় ০৫:৩৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

মোঃ বাবুল প্রকাশকঃ

‎গাজীপুর জেলার টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন টঙ্গী পৌর ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া নড়ে না ফাইল, ঘুষ গ্রহণের সময় হাতেনাতে গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে ধরা পড়ল অফিস সহায়ক সুইটি ডিকস্তা।

‎সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, সেবার নামে হয়রানি আর ঘুষের রমরমা বাণিজ্য চলে এই ভূমি অফিসে। টঙ্গী পৌর ভূমি উপসহকারী রোমান হোসেনের রয়েছে নিজস্ব দালাল চক্র। যাদের মাধ্যমে নামজারি,ভূমি কর দিলে সব কিছুই সহজেই হয়ে যায় । এমনকি জাল দলিল দিয়েও নামজারি করে দেয় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সে। এখানে শতাংশ অনুযায়ী ঘুষের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয় টঙ্গী পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তাহমিনা ইয়াসমিন। ঘুষের পরিমাণ ১৬ হাজার থেকে শুরু করে ৬০ হাজার,আবার কোন কোন ক্ষেত্রে লক্ষাধিকও হয়।এসব ঘুষের টাকার বড় একটা অংশ চলে যায় টঙ্গী রাজস্ব সার্কেল অফিসে। উল্লেখ্য সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার সরকারি সম্পদ গিলে খাওয়া  টঙ্গীর ভূমি খেকো মাউচ্ছা কামরুল ওরফে কামরুল ইসলামের সকল ভূমি সংক্রান্ত জাল জালিয়াতির সহযোগী এই ভূমি অফিসের সকল কর্মকর্তা কর্মচারিরা। এখানে ফাইলের কাগজপত্র নাড়তে জায়গার পরিমাণ অনুযায়ী ঘুষ দিতে হয় অফিস সহায়ক সুইটি ডিকস্তা কে। ১৩ মে বুধবার ভূমি কর দিতে আসা শেখ মোজাম্মেল নামক  একজনের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার সময় সে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর ভূমি সেবা নিতে আসা গ্রাহকেরা গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট প্রকাশ করেন তাদের হয়রানির কথা।

ভূমি কর দিতে এসে ঘুষ দেয়া বিষয়ে শেখ মোজাম্মেল জানান, টাকা ছাড়া এখানে কোন ফাইল নড়ে না,সেই কখন থেকে ঘুরতেছি।তাই বাধ্য হয়ে ঘুষ দিয়েছি।

এবিষয়ে পূবাইলের মোশারফ হোসেন নামের একজন জানান, নামজারি সংক্রান্ত বিষয়ে দালালের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে, আর  ভূমি কর দিতে আসলে বসে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা,কিন্তু ভালবাসা দিলে কাজের গতি বাড়িয়ে নিমিষেই করে দেয় সকল কাজ তারা। ভালবাসা কি জিজ্ঞাসা করতে মোশারফ হোসেন বলে উঠে এটাও বুজেন না এখানে ঘুষ কে ভালবাসা বলে।

‎নামজারির কাগজ নিতে আসা সাতাইশের সাইদুল ইসলাম নামের আরেকজন জানান, সরকারি মূল ১১শত টাকা হলেও, তার নামজারি করতে দালালের মাধ্যমে দিতে হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। আর নামজারির কাগজটা  দেরিতে নিতে আসায় দিতে হচ্ছে ৩ হাজার টাকা।

এছাড়াও একাধিক ভুক্তভোগী গণমাধ্যম কর্মীদের দেখে এগিয়ে এসে জানায়,এখানে রোমান হোসেন আর সুইটি ডিকস্তার মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণ করে নায়েব তাহমিনা ইয়াসমিন। জটিল কাজেও সমাধান হয়ে যায় দালাল ধরে ঘুষ দিলে।

ঘুষ গ্রহণের সময় হাতেনাতে ধরা পড়া টঙ্গী পৌর ভূমি অফিস সহায়ক সুইটি ডিকস্তা জানান, এই কয়টা টাকার  জন্যও আমার বিরুদ্ধে নিউজ করতে হবে।

ঘুষ লেনদেন হচ্ছে প্রকাশ্যে, আর ঘুষ গ্রহণের অনুমতি কি আপনি দিয়েছেন মুঠোফোনে টঙ্গী পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তাহমিনা ইয়াসমিন কে এমন প্রশ্ন করতেই সে জানান,আমার অফিসে ঘুষ চলে না,গণমাধ্যম কর্মীরা যখনই পাল্টা জিজ্ঞাসা করল আমরাতো আপনার অফিসের অফিস সহায়ক সুইটি ডিকস্তা কে ঘুষ গ্রহণের সময় হাতেনাতে ধরেছি,তখন সুইটিকে মুঠোফোনটা দিতে বলে এবং তাকে বলে গণমাধ্যম কর্মীদের মুঠোফোনের ফোন কেটে তার মুঠোফোনের মাধ্যমে ফোন করতে।

‎টঙ্গী পৌর ভূমি অফিসের নামজারি, ভূমি কর সহ সকল সেবা নিতে আসা গ্রাহকের নিকট থেকে ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ মোজাহেরুল কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, আমি ওদের বিরুদ্ধে একশানে যাব,যদি আমিও অপরাধী হয় আমাকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা উচিত। আর সরকারি জায়গা দখল করা কামরুলের বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।